1
1
এবারের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনের বিরোধী ঝোড়ো হাওয়ায় খড়-কুটোর মত উড়ে যাবে রাজ্যের শাসক দল ?
বিশেষ সংবাদদাতাঃ বিরোধীদের দেওয়া কোন মোক্ষম চালে রাজ্যের শাসক দলের সব নেতা – নেত্রী সমেত সুপ্রিমো দিশেহারা ? কিছুতেই সেই কৌশল কেটে বেরিয়ে আসতে পারছে না রাজ্যের শাসক দল , তৃণমুল কংগ্রেস। এই প্রশ্ন ঘুরছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল থেকে দেশের রাজনৈতিক মহলেও। অনেকেই প্রশ্ন করছেন , কেন রাজ্যের শাসক দলের প্রচারে একটি ইস্যুকেই নানা ভাবে কাউন্টার করতে গিয়েই সময় চলে যাচ্ছে রাজ্যের শাসক দল , তৃণমুল কংগ্রেসের সবাইয়ের ?
সেই মোক্ষম চালের কৌশল আর কিছুই নয় , রাজ্যের এস আই আর । অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের নির্বাচক তালিকার নিবিড় সংশোধন কর্মসূচী । আর এই এস আই আর নিয়ে যতটা সরব রাজ্যের শাসক দল । ততটাই নির্বিকার প্রধান বিরোধী দল বিজেপি। এই এস আই আর নিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে আদালত পর্যন্ত দোউড়তে হয়েছে । উল্টোদিকে বিজেপি সমেত দব বিরোধী দলের একটাই বক্তব্য , ‘ কোন বৈধ ভোটার যেন বাদ না যায় ।’
এদিকে রাজ্যে কয়েক লক্ষ মান্মুসের নাম ইতিমধ্যেই বাদ গিয়েছে । লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সির পুরপুরি সমাধান এখনো হয়নি । এই নাম বাদ চলে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না রাজ্যের শাসক দল। বিজেপি যেখানে ভোটার তালিকায় ভুতুরে ভোটারের , অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে ক্রমাগত রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দাগছে । আর এই উস্কানিতেই দিশেহারা শাসক দল । শাসক দলের কাছে এই তোপ এর উস্কানি এতটাই ভারী হয়েছে যে তাঁদের ভাষণের সিংহ ভাগ জুড়ে থাকছে এই এস আই আর। গোদের উপর বিষফোড়া , কেদ্রিয় তদন্তকারী এজেন্সির তৎপরতা। সেটাতেও বেশ বেকায়দায় পড়ে ভাষণে রাখতে হচ্ছে বিষয়। ফলে উন্নয়নের আশ্বাস , বা রাজ্যের দেওয়া নানা রকম ভাতার বিষয়ে ভাষণে বলার সময় থাকছে কম। এদিকে রাজ্যের শাসক দলের অস্ত্রেই বধ করতে নেমেছে বিরোধী বিজেপি। রাজ্যে বারে বারে আসা প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই ভাতার জায়গাটাকে আরো এগিয়ে নিয়ে গিয়ে , সরকারের দেওয়া ভাতার টাকার পরিমানের থেকে , অনেক বেশি টাকা দেবার আশ্বাস দিচ্ছে। আর তাঁদের বক্তব্যের সিংহ ভাগ থাকছে এই বিষয়গুলি। প্রচার কৌশলের কাছে বেশ খানিকটা ম্রিয়মাণ লেগেছে শাসক দলকে। রাজ্যে যেমন আসছে বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী , তেমনি লাগাতার রাজ্যে রোড শো থেকে শুরুকরে সব কিছুতে অংশ নিচ্ছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী , স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী , প্রতিরক্ষা মন্ত্রী থেকে বহু কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কারণ কিছুই নয় এই রাজ্যে এখনও বিজেপি’র মজবুত কোন সংগঠন তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে , সাধারণ মানুষের মনে বিজেপি সম্পর্কে একটা নিরাপত্তার আশ্বাস দিতে এই প্রচার কৌশল। আর তাতে বিজেপি সফল। এখন দেখার রাজ্যের শাসক দলের যে পরিমান ডেডিকেটেড ভোট ব্যাঙ্ক আছে , সেখানে কতটা ফাটল ধরে। এদিকে একটি সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে , এই প্রচার কৌশলের সৌজন্যে রাজ্যে বিজেপি’র দিকে রাজ্য সরকার বিরোধী একটা ঝোড়ো হাওয়া এই মুহূর্তে বইছে । যেতা রাজ্যের শাসক দলের পক্ষে খুবই খারাপ সময়ের ইঙ্গিত বহন করছে । রাজনৈতিক পরযব্রক্ষক্রা মনে করছে গত ১৫ বছরে রাজ্যের শাসক দলের নানা দুর্নীতি, চুরি , স্বাস্থ্য থেকে শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা কালো ছায়া , উন্নয়নের উজ্জ্বলতাকে ম্লান করে দিয়েছে । ফলে দেখার আগামী দ্বিতীয় ও শেষ পর্যায়ের নির্বাচনের পর কি ফলাফল দেখা যায়। একটি সুত্র বলছে , রাজ্যের শাসক দলের কাছে এখন মুল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিভাবে দলের আভ্যান্তরিন যে একটা বিরোধী চোরা স্রোত বইছে , সেটাকে সামাল দেবার বিষয়টি । এখন দেখার , রাজ্যের শাসক দল কি ভাবে এই লড়াই জেতার জন্য এগোয়। আর উল্টোদিকে থাকা বিজেপি সমেত সমস্ত বিরোধী দল কি ভাবে নিজেদের ভোট ব্যাঙ্ককে আরো সুরক্ষিত করে। তবে রাজনৈতিক মহল মনে করছে ,হয়ত কিছু একটা ঘটতে চলেছে , যা এই রাজ্যে ৩৪ বছরের বাম , জমানার অবসান ঘটিয়েছিল , হয়ত সেভাবেই এই ১৫ বছরের সরকারের প্রস্থান ঘটবে ।