1
1
নিজস্ব সংবাদদাতাঃ আজও আবার পথে নামলেন এই বাংলার এক সময়ের লড়াকু নেত্রী , প্রাক্তণ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । আবার আন্দোলনমুখী এক সময়ের অগ্নিকন্যা । ইতিমধ্যেই ঘরের বিদ্রোহে দল ভেঙ্গে খানখান । বিদ্রোহের দাবালনে ঘি ছেটাচ্ছেন তাঁরাই দিলের সাংসদ থেকে বিধায়ক , সবাই। নিজের ঘরের একান্ত প্রিয়জনের সমস্যায় যেমন মানসিক যন্ত্রণায় জেরবার । ঠিক সেই অবস্থাতেই তিনি আজ হকার উচ্ছেদসহ এক গুচ্ছ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাস্তায় নামলেন । তাঁর যে সেই লড়াকু মেজাজ আজও হারিয়ে যায়নি , সেটারও প্রমাণ পাওয়া গেল পদযাত্রায় । তিনি এদিন বলেন হকার সমেত নানা ক্ষেত্রে খেটে খাওয়া মানুষের রোজগারের রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল, গভীর সংকটে তাঁরা । এদিন তাঁর তরফে এক বিবৃতিতে জানানো হয় , দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত ও রাস্তার ধারে ব্যবসা করে বহু পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। উচ্ছেদ অভিযানের ফলে তাঁদের রুজি-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। তাই পুনর্বাসন দিয়ে হকারদের সরে যেতে বলা হোক।এদিন কলকাতার ধর্মতলায় জমায়েত শুরু হয় , সেখানে একটি প্রতিবাদ সভা করা হয়। বক্তব্য রাখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । এরপর শুরু হয় পদযাত্রা । শেষ হয় রাজা সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে । এদিন তাঁর সঙ্গে দেখা যায় বহু পুরাতন কর্মীদের। অবশ্যই বিধায়ক কুনাল ঘোষ , সাংসদ দোলা সেন । একসময়ের মমতা ব্যানার্জির খুব প্রিয় রত্না শুরকে । দেখা যায়নি তাঁর দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের । এই প্রতিবাদ মিছিলে ভিড় ছিল অবশ্যই চোখে পড়ার মত। রাজনৈতিক মহল মনে করছে , মমতার এই পথে নামা , আর সঙ্গে প্রায় হাজার দশেক মানুষ রয়েছেন , এখনও এত কিছুর পরেও মানুষ তাঁর সাথে আছে , ফলে তাঁর দল বা তিনি যে আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেন , সেটার একটা ইঙ্গিত আজ পাওয়া গেছে। তবে মানুষ তাঁকে আজও বিশ্বাস করে, কিন্তু তাঁর দলের অন্য কাউকে নয় । ফলে তাঁর ক্যারিস্মা এখনও যে বর্তমান , সেটা আজই বোঝা গেছে । রাজনৈতিক মহল আরো বলছে যে অভিষেক সমস্যাকে যদি দলের গা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারে , তবে এই জনজোয়ার কিছুটা হলেও ফিরে আসবে। বিশ্বাসযোগ্যতা কতটা ফিরবে বলা শক্ত । তাঁর কারণ দলের বিভিন্ন নেতা থেকে প্রাক্তন বিধায়করা যে ভাবে দুর্নীতির দায়ে আটক হচ্ছেন , সেটার ধাক্কা একটা লাগছেই । এই ধাক্কা কতটা কাটিয়ে উঠতে তিনি সমর্থ হবেন সেটাই তাঁকে আবার ভবিষ্যতে ফিরে আসতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন তাঁরা ।