Popular Posts

তৃণমূলের ভোটের ময়দানে কি গলার কাঁটা হচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ ?

Spread the love

বিশেষ সংবাদদাতাঃ সারা রাজ্য জুড়ে এখন শেষ লগ্নে বিধান সভার ভোটের জন্য রাজনৈতিক লড়াই এর ময়দানে উচ্চ গ্রামে সুর চড়েছে। রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এখন এই লড়াই কিভাবে সামাল দেবে , সেটা নিয়েই জেরবার। কেননা প্রধান বিরোধী দল যেমন সর্ব শক্তি নিয়ে ঝঁপিপিয়ে পড়েছে। তারা উত্তর প্রদেশ , আসাম , মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীদের ভোটার ময়দানে এনে ঝাঁজ বাড়িয়েছে, তেমনি প্রধানমন্ত্রী থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, এমনকি বড় থেকে ছোট মাপের মন্ত্রী থেকে নেতাও হাজির হয়েছেন ভোটার ময়দানে অল আউট খেলতে। অন্য দিকে কংগ্রেস পিছিয়ে নেই। তারাও এবার রাজ্যের প্রযেক্টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তাদের প্রচারে এসেছেন রাহুল গান্ধী। এদিকে রাজ্যের প্রাক্তন শাসক দল বামফ্রন্ট প্রচারে সেই চিরাচরিত পদ্ধতিতে। ফলে ভোটের ময়দানে ভোটাররা ২০২৬ যে ছবি দেখছেন , তা কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাসে এক বিরল অধ্যায়ের স্বাক্ষী হচ্ছেন তারা।
রাজ্যের শাসক দল এই আক্রমণে অনেকটাই বেসামাল। তার কারণ , ঘরে – বাইরে দলের বর্তমান কর্মী থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী , আবার যারা এবার টিকিট পাননি , তারা কেউ প্রকাশ্যে , আবার কেউ অন্তরালে শাসক দলের বিপক্ষে মুখ খুলছে। যা কিনা দলীয় স্তরে বাঁধন অনেকটাই হালকা হবার ইঙ্গিত মিলেছে। বেশি কিছু সর্ব ভারতীয় স্তরের নির্বাচনী বিশ্লেষক বলছেন , এবার শাসক দলের ফিরে আসাটা বেশ কঠিন। একদল বিশ্লেষক আশংকা করছেন , এবার ঘোড়া কেনা বেচা হবে নির্বাচনী ফলাফল বেরোনোর পর পরই। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে যদি বিজেপির আসন সংখ্যা ক্ষমতা দখলের থেকে কয়েক তা কম থাকে , তারা প্রানপন ঝাঁপাবে সরকার গঠন করতে। সেক্ষেত্রে তারা মনে করছেন , বেশ কিছু শাসক দলের প্রার্থী ইতিমধ্যেই নাকি ভেবে রেখেছেন , জিতলেই দল বদল করবেন। আবার এই সমস্যা ছোট দলের ক্ষেত্রেও আছে. ফলে রাজনৈতিক মহলের মতে এবারের নির্বাচন অনেকটাই রানৈতিক স্ট্র্যাটেজি নির্ভর হচ্ছে। যেখানে নির্বাচনী ফলাফলের ভবিষ্যৎ বক্তাদের কথা না মেলার সম্ভাবনা বেশ.
রাজ্যের শাসক , তৃণমূল কংগ্রেস শিক্ষায় দুর্নীতির অভিযোগে জেল খাটা পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ছেঁটে ফেলে যে কত বড় ভুল করেছে , সেটা এবারের নির্বাচনে বেশ খানিকটা প্রমাণিত হবে। তার কারণ বেশ কিছু এমন ব্যক্তি আছেন , যারা পার্থর থেকেও দাগি হিসেবে এর মধ্যেই জন সমাজে পরিচিত , তারাও প্রার্থী হয়েছে। অথচ এক সময়ের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড , রাজ্যের তৃণমূল কংগ্রেসের উত্থানের পিছনে যাকে বলা হত মাস্টার মাইন্ড , সেই পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে একেবারেই সব রকম ছবির বাইরে রেখেছে। একটি সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে যে ঘনিষ্ঠ জনেদের কাছে সেই বিষয়টি খুবই পীড়াদায়ক ও ব্যাথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। এখন একেবারেই ঘর বন্দি বলা চলে। একসময়ে সমস্ত মিডিয়া যার সামনে ভিড় করে থাকত। এখন তারাও আর সেভাবে পাত্তা দেয়না। ফলে সব দিকে দিয়ে এক মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছে বলে ঘনিষ্ঠ মহলের একটি সূত্র জানাচ্ছে। তাহলে কি তিনি একে বারেই নিঃশ্চুপ। একটি সূত্র বলছে। তা একেবারেই নয়। তিনি রাজনীতির পার্থ। ফলে রাজ্যের রাজনীতির রথের চাকা এবার অনেকটাই গড়াবে তাকে কেন্দ্র করে। ভুলে গেলে চলবে নানা , সারা রাজ্যে তার অনুগামীর সংখ্যা খুব একটা কম নয়. এমনকি প্রধান বিরোধী দল , বিজেপি’র অন্দরেও রয়েছে তার অনুগামীরা। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে , তিনি নানা অস্ত্র তুলে দিচ্ছেন হয়ত। আর সেই অস্ত্রেই ঘায়েল হবে রাজ্যের শাসক দল , তৃণমূল কংগ্রেস। ( ফাইল চিত্র )

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *