1
1
বিশেষ সংবাদদাতাঃ রাজ্যের প্রথম দফার নির্বাচন সম্পন্ন। বিপুল সাড়া পড়েছে এই ভোটে । প্রায় ৯২ শতাংশ ভোট পড়েছে ১৫২ টি বিধানসভা কেন্দ্রে। উত্তরবঙ্গ সমেত দক্ষিণ বঙ্গের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রের নির্বাচন হয়েও গেছে ।বাকি ১৪২ টি কেন্দ্র একেবারেই দক্ষিণ বঙ্গে । এই দক্ষিণ বঙ্গকেই শাসক দলের ঘাঁটি বলে ধরা হয়। এদিকে প্রথম দফার নির্বাচনের পর সব দলই নিজের নিজের মত করে অংক কষতে শুরু করেছে। শাসক দল যেমন তাঁদের অভুত ভাবে জেতার কথা বলছে , তেমনি প্রধান বিরোধী দলগুলিও আশাবাদী বেশি আসনে জয়ের ব্যাপারে। তবে রাজনৈতিক মহল কিন্তু দ্বিধাবিভক্ত। রাজ্যের এই ঐতিহাসিক ভোটদানের পর তাঁদের একাংশ মনে করছেন এটা পুরোটাই হয়েছে শাসক বিরোধী ভোটদান । আর সারা রাজ্যে প্রধান বিরোধী দল বিজেপি যে ভাবে প্রচার ও নেজেদের মেলে ধরেছে , সেখানে সাধারণ মানুষ সামান্য হলেও ভরসা পেতে শুরু করেছেন। অন্যদিকে একাংশ মনে করছে , এস আই আর হয়ে যাবার পর শুধুমাত্র নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষা করার জন্য ভোট দিতে গিয়েছেন । আর একদল মনে করছে , এই বিশাল ভোটদানের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের নির্ভয়ে ভোট দেবার পরিবেশ দেবার কারণেই হয়েছে।
এদিকে যারা একটু আধটু নির্বাচন নিয়ে জেতার বিষয়ে ভবিষ্যৎ বানী করে থাকেন , তাঁরাও এখন দ্বন্দে পড়ে গেছেন । তাঁদের অনেকের মতে শাসক বিরোধী ভোটের প্রতিফলন ঘটেছে প্রথম পর্যায়ে । তাই তাঁরা এই পশ্চিমবঙ্গে শাসনভার যে পরিবর্তন হচ্ছে , সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন । তাঁদের মতে যদি প্রথম পর্যায়ের ভোটে বিজেপি ৮০র ওপরে আসন জেতে । তাহলে তাঁরা সরকার গড়ছেই। তাঁদের ধারণা এবার ১৫৮ থেকে ১৬২ টি আসন নিয়ে সরকারে আসবে বিজেপি । অন্যদিকে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন যে এবার বাম ও কংগ্রেসের ফলাফল অনেক ভালো হবে। তাঁর শুণ্য থেকে বাড়বে , দুই সংখ্যায় গেলে অবাক হবার মত কিছুই থাকবে না । বেশ কিছু আসন জেতার সম্ভাবনা তৈরি করেছে তাঁরা । ফলে ভবিষ্যৎ বক্তাদের কাছে বেশ সমস্যার । এদিকে বহু মিডিয়া যারা একটু শাসক ঘেঁষা , তাঁরা প্রথম পর্যায়ের পর শাসক দলকেই জেতার ব্যাপারে এগিয়ে রেখেছে। জাতীয় মিডিয়াগুলি আবার বিজেপি’র দিকেই পাল্লা ভারী করেছে। ফলে বেশ জটিল হয়েছে অঙ্ক। আর শাসক দলের অন্দর মহলের বেশ কিছু নেতা ইতিমধ্যেই শাসকের সরে যাবার ইঙ্গিত দিতে শুরু করেছে । বীরভুমের কেষ্ট ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বলছেন , শাসক তল তৃণমূল কংগ্রেস পাবে ১৫ থেকে ১৬ টি আসন । ফলে শাসক দলের চলে যাওয়ার ঘন্টা কি বেজে গেল ? বলছেন বিরোধীরা ।