1
1
বিশেষ সংবাদদাতাঃ বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে , তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়চজে রাজ্যের প্রাক্তণ শাসক দলের সংসার । এটা রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে এটা অনাকাঙ্খিত ছিল না । অবশ্যম্ভাবি ছিল। হয়ত প্রশ্ন উঠবে যে এই কথা কেন উঠছে ? তার প্রধান কারণ হচ্ছে এই দলটার ক্ষমতা পাবার পর দি থেকেই , অর্থাৎ সেই ২০১১ সাল থেকেই দলের ছোট , বড় , মাঝারী নেতাদের লুঠে খাবার মানসিকতা । তাঁদের মানসিকতায় একটাই উদ্দেশ্য ছিল এই দলটা যে কোন মুহূর্তে ক্ষমতা থেকে সরে যেতে পারে , তাই এই সময়ের মধ্যে গুছিয়ে লাও । আর সাধারণ মানুষের কাছে ৩৪ বছরের বাম জমানার অবসান ঘটিয়ে , এক লড়াকু নেত্রীকে পেয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিল। তাঁদের কাছে সাধারণ ঘরের মমতা ব্যানার্জি , তাঁদের প্রতিনিধি হয়ে , তাঁদের দুঃখ কষ্ট দূর করবে। সাধারণ গণদেবতার সেই আশা- আকাঙ্খাকে প্রথম পাঁচ বছরে মূল্য দিয়ে পুরণ করছিলেন তিনি। তাঁর জণ কল্যাণমুখী সামাজিক প্রকল্পগুলি অল্প সময়েই সাধারণ মানুষের মনে গেঁথে গিয়েছিল । পরের নির্বাচনে রাজনৈতিক মহল বলতে শুরু করেছিল যে একা মমতা হচ্ছেন পোস্ট , বাকি সব ল্যাম্প পোস্ট । মমতাও সেকথা জানতেন যে সাধারণ মানুষ তাঁকে ঘরের মেয়ে মনে করে । তাঁর দলের ক্যাচ লাইন হয়ে উঠেছিল , বাংলা তাঁর ঘরের মেয়েকেই চায় । এই বাংলার সাধারণ মানুষ আবার ২০২১ এও সেই ভালোবাসাকে উজাড় করে দিয়েছিল। কিন্তু ততদিনে তিনি তাঁর পরিবারের মানুষজন , দলের নিচুতলা থেকে একেবারে উপরতলা পর্যন্ত ,কবির সুমনের ভাষায় ‘ খাও খাও ‘ ফর্মুলায় চলতে শুরু করে দিল। শেষের নয় বছরে দুর্নীতির একেবারে শিখড়ে পৌঁছে দিল সিন্ডিকেট বাহিনী । এই বাহিনী পুরসভা থেকে বিধানসভা , সব জায়গায় নিজেদের লোভকে , লালসাকে , ঔদ্ধত্যকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেল , যেখানে সাধারণ মানুষ , মানে গণদেবতার কাছে চরতম বিতৃষ্ণার একটা কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল তৃণমূল কংগ্রেস । শুরুটা হয়েছিল পঙ্কজ বন্দ্যোপাধ্যায়ের চোখের জল ফেলা দিয়ে , অজিত পাঁজার হতাশা দিয়ে । এই প্রতিবেদক সেগুলি প্রত্যক্ষ করে ছিলেন। কংগ্রেস ভেঙ্গে নতু দল , সেই দলের খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনমানসে জনপ্রিয় হয়ে ওঠা। ক্রমে ক্রমে বাম জমানার অপশাসন ঘটানো । সোমনাথ চট্টপাধায়কে হারানো এক জায়েন্ট কিলারের হাত ধরে সেই সময়ে ছোট্ট মেয়েতিকে সারা বাংলা ঘরের মেয়ের মর্যাদা দিয়েছিল । তাই মমতা বলতে পারতেন , রাজ্যের সব কটি আসনে তিনিই প্রার্থী । মানুষ ভালোবেসে তাঁকে সেই সম্মান দিতেন । এই ভালোবাসা যে তাঁর দলের অন্য সব সদস্যরা ধান্দার একটা ছক কষে লুঠ , তোলাবাজি , সিন্ডিকেট বাজি সমেত সমস্ত রকম দুর্নীতির একটা দলে রুপান্তরিত হয়ে উঠল । সেই লোভের আগ্নেয়গিরির লেলিহান শিখায় ছাড়খাড় হয়ে গেল সাধারণের মানুষের কাছের মেয়ের সংসার । আজ তাঁর দলের ধান্দাবাজরা তাঁকে ছিবড়ের মত করে ছুড়ে ফেলে দিল । স্বার্থ ফুরিয়ে যেতেই ত্যাগ করতে দ্বিধা করল না এক মিনিট। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে , তৃণমুল কংগ্রেস দলটাই ছিল প্রথম দিকে আবেগের । পরে সেটা ধান্দাবাজদের খপ্পরে পড়ে হয়ে গেল দুর্নীতির আখড়া । তাঁর পরিবারের এই দিকে নিয়ে যাবার পিছনে অবদান যথেষ্ট । এখন সময়ের অপেক্ষা । আই সি ইউ তি শেষ শ্বাস নিতে থাকা দলটা কখন শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে ।