1
1
বিশেষ প্রতিনিধিঃ রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মানস ভূঞ্যাকে ঘিরে। বিভিন্ন মহলের দাবি, খুব শীঘ্রই তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে পুনরায় কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত তাঁর তরফে বা কোনও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি, তবুও রাজনৈতিক অন্দরে এই নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে বড়সড় পরিবর্তন এসেছে। নির্বাচনের ফলাফলের পর থেকেই তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের নেতা-নেত্রীদের মধ্যে অসন্তোষের সুর শোনা যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের দাবি। দলের একাধিক নেতা নির্বাচনী কৌশল, সংগঠন পরিচালনা এবং ভোট-পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থা আই-প্যাককে ঘিরেও সমালোচনার সুর উঠেছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অভিমত।
এই আবহে মানস ভূঞ্যার সম্ভাব্য ‘ঘর ওয়াপসি’কে অনেকেই অস্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সবং কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন তিনি। তবে বিজেপি প্রার্থী আমল পণ্ডার কাছে পরাজিত হন। নির্বাচনী পরাজয়ের পর মানস ভূঞ্যা নিজেই সেই হারের দায় স্বীকার করেছিলেন।
রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ মানস ভূঞ্যা। কংগ্রেসের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করলেও পরবর্তীতে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন। সেই সময় তাঁকে দলীয় পতাকা তুলে দিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর তিনি বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দেন এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার সদস্য হন। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর রাজ্য মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও সামলেছেন তিনি।
তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। মানস ভূঞ্যা আদৌ কংগ্রেসে ফিরবেন কি না, নাকি সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে তৃণমূলেই থাকবেন— সেই উত্তর মিলবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই। আপাতত রাজনৈতিক মহলের নজর তাঁর পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।